Best Reseller Hosting Service in BD
আমি আতিকুর রহমান। পেশায় একজন B.Sc Engineer. আমি খুব বেশি কিছু জানি না তবে ব্লগ লেখা আমার শখ। তাই যখন সুযোগ পাই তখন লিখতে বসি। যদি আমার একটি পোস্ট ও আপনাদের একটু হলেও হেল্প করে তাহলে আমার চেষ্টা সার্থক হবে। সবাই ভাল থাকবেন।
মোট পোস্ট সংখ্যা: 371  »  মোট কমেন্টস: 5  
Facebook
Google Plus
Twitter
Linkedin

রোগের নাম রোগী সেরে ওঠায় ভূমিকা রাখে

নামে কিইবা আসে যায়।কালো ছেলের নাম নাকি সুন্দর আলী হতে বাধা নেই। তবে রোগের নাম রাখার ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই ভিন্ন। চিন্তাভাবনা করেই রোগের নাম রাখা উচিত। কেননা রোগের নাম রোগী সেরে ওঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। রোগের নাম খারাপ হলে, রোগীর সেরে ওঠার ক্ষেত্রে সেটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।

কিছু রোগের নামই খারাপ হয়। কিছু নাম রাখা হয় দেশ বা ব্যক্তির নামে। কখনো বা সম্প্রদায়ের নামেও রাখা হয় রোগের নাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিষয়গুলো রোগ নিরাময়ে বেশ বড় একটা ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় রোগের লক্ষণ বা ভাইরাসের নামও ব্যক্তি বা স্থানের নামে রাখা হয়।
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। যার নাম দেয়া হয়েছিল মেক্সিকান স্নোয়াইন ফ্লু। আবার চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাসের স্থূলাকার চরিত্রের নামে ওবিসিটি হাইপোভেন্টিলেশন সিনড্রোমের নাম দেয়া হয়েছিল পিকউইকিয়ান সিনড্রোম।
সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত যে রোগটি তা হলো মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস বা এমইআরএস-সিওভি। ২০১২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে ১৩০ জন সংক্রমিত হয়েছে। মারা গেছে ৫৮ জন। সৌদি আরব, তিউনিশিয়া, জর্ডান, কাতার আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। একজন সৌদি রোগীর দেহে মিশরের এক চিকিৎসক সর্বপ্রথম এই ভাইরাসের সন্ধান পান। তাই এর নাম দেয়া হয় মধ্যপ্রাচ্যের নামে।
নেদারল্যান্ডসের ইরাসমাস মেডিকেল সেন্টারের শীর্ষ বিজ্ঞানী রন ফুশার জানালেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ এই নামে খুশি হননি। তাই কোনো ধরনের স্পর্শকাতরতা এড়াতে এর নাম পরিবর্তন করে এইচসিওসি-ইএমসি রাখা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন তিনি।
এরপরও কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হওয়ায়, নাম রাখা হয়েছে এমইআরএস-সিওভি। এ বছরের মে মাসে এই নাম অনুমোদন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং হুঁশিয়ার করে দিয়েছে কোনো এলাকা বা অঞ্চলের নামে যেন কোনো ভাইরাসের নাম রাখা না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ স্টিফেনি মরিসন এএফপিকে জানিয়েছেন, নাম রাখার বিষয়ে মতানৈক্য হলে ঝামেলা হয়। এ কারণে বেশ কিছু রোগের খারাপ নাম আজ হারিয়ে গেছে। যেমন হাইতি, হোমোসেক্সুয়াল, হেমোফিলিয়াক্স এবং হেরোইন-এই চারটির কথা মাথায় রেখে এইচআইভি এইডস-এর আগের নাম ছিল ফোর এইচ। এরপর ১৯৮২ সালে গে-রিলেটেড ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সির নামে জিআরআইডি রাখা হলেও খুব শিগগিরই তাও বাতিল হয়।
এমনকি আবিষ্কারকদের নামেও সবসময় রোগের নাম রাখা হয় না, যেমন জার্মান সায়কিয়াট্রিস্টের নামে আলজাইমারের নাম রাখা হয়েছে।
২০০৯ সালে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে সুপারবাগ। এর এনজাইমের নাম রাখা হয়েছিল নিউ দিল্লি মেটালো-ল্যাকটামেস-ওয়ান বা এনডিএম ওয়ান। ২০০৭ সালে ভারত সফরের সময় সুইডেনের এক নাগরিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এই নাম রাখা হয়েছিল।
এরপর পুরো বিশ্বে সুপারবাগ ছড়িয়ে পড়লে ভারতের বিশেষজ্ঞ এবং পার্লামেন্ট সদস্যরা এই নাম পরিবর্তনের দাবি জানান। তবে এখনও পর্যন্ত এই নামেই বহাল আছে ভাইরাসটি।
রোগের নাম খারাপ হলে তা নিরাময়ে যে বড় ভূমিকা রাখে তার উদাহরণ হলো কিমবি নামে ২৭ বছরের এক তরুণী, যিনি হালেরফোরডেন-স্পাৎস নামে এক রোগে আক্রান্ত। এই রোগটির নাম রাখা হয়েছে একজন নাৎসি চিকিৎসকের নামে। ১০ বছর আগে কিমবির মা এই নাম পরিবর্তনের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন।
তার ধারণা, নামের কারণেই তার মেয়ে এই রোগ থেকে সেরে ওঠার কোনো চেষ্টা করছে না। গবেষণায় দেখা গেছে ৯০ এর দশকের পর হালেরফোরডেন-স্পাৎস নামটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না।
আর নামটা যদি ভালো হয়, তবে রোগ নিরাময় হয় তাড়াতাড়ি। যেমন হেনরি ভি সাইন। শেক্সপিয়ারের হেনরি ভি-এর নামে রোগের লক্ষণের নাম রাখা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ ক্রকের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ফার্গুস শানাহান জানিয়েছেন, এই নামটা রোগ থেকে সেরে উঠার ব্যাপারে কাজ করে, কারণ বেশিরভাগ রোগী শেক্সপিয়ার নামটির সঙ্গে পরিচিত।

e-HostBD Hosting Service





eHostBD Hosting

মন্তব্য করুন