Best Reseller Hosting Service in BD
আমি আতিকুর রহমান। পেশায় একজন B.Sc Engineer. আমি খুব বেশি কিছু জানি না তবে ব্লগ লেখা আমার শখ। তাই যখন সুযোগ পাই তখন লিখতে বসি। যদি আমার একটি পোস্ট ও আপনাদের একটু হলেও হেল্প করে তাহলে আমার চেষ্টা সার্থক হবে। সবাই ভাল থাকবেন।
মোট পোস্ট সংখ্যা: 371  »  মোট কমেন্টস: 5  
Facebook
Google Plus
Twitter
Linkedin

স্মৃতিশক্তি প্রখর করে তুলুন ৭টি উপায়ে

online-brain-games_anytech“দুনিয়ার সবকিছুর ভান্ডার এবং রক্ষক হল আমাদের স্মৃতি”- আমার কথা নয়, রোমান দার্শনিক সিসেরোর বাণী এটা, যা গ্রন্থিত রয়েছে তাঁর “দ্যা ওরাটোরে” রচনায়। সেই প্রাচীন সময়ে স্মৃতিশক্তির প্রয়োজনীয়তা ছিল বটে, কিন্তু বর্তমানকালে তার প্রয়োজনীয়তা আরও প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমাদের মনোযোগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়তই। একটার বেশি কাজে মনোযোগ দিতে গিয়ে স্মৃতিশক্তির বারোটা বেজে যাচ্ছে। আর শুধু একজন-দুইজনের না, আমাদের সবার স্মৃতিশক্তিই খারাপ হয়ে যাচ্ছে একসাথে!

জরিপে দেখা গেছে, ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের তুলনায় আশি বা নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া ১৮-৩৮ বছর বয়সীদের মাঝে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেশ প্রবল। আজ সপ্তাহের কি বার, তাদের চাবি কোথায় রাখা হয়েছে, দুপুরের খাবার খাওয়া এমনকি গোসল করতে ভুলে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় এদের মাঝে! এটা সত্যি যে যেকোনো বয়সে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া শুরু হতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আমাদের জীবনে। ছোটবেলায় সংক্ষেপে পড়া মনে রাখার জন্য অনেক কৌশল ব্যবহার করতাম আমরা, যেমন “বেনীআসহকলা”, কিন্তু এই কৌশলগুলো শুধু ছেলেবেলায় ফেলে আসার জন্য নয় বরং প্রাপ্তবয়স্কদের স্মৃতিশক্তি উন্নত করার জন্যেও এগুলো বেশ কার্যকরী। জেনে নিন এক্ষেত্রে কি কি কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে!
মনশ্চক্ষুর ব্যবহার করুন

আপনার মনকে ব্যবহার করে বিভিন্ন বস্তুর ছবি মনে রাখার চেষ্টা করুন। তথ্য হিসেবে মনে না রেখে এসবের ছবি কল্পনা করে নিন। ৬৫ শতাংশ মানুষ অবচেতনভাবেই এই কাজটি করে থাকে কিন্তু সচেতনভাবে এই কৌশল ব্যবহার করলে আপনার স্মৃতি আরও প্রখর হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার যদি চারটার সময়ে একটা মিটিং থাকে তাহলে তার সাথে মনে রাখুন আপনার পছন্দের চার-সদস্যের কোনও মিউজিক ব্যান্ডের ছবি! এখন শুনতে শিশুতোষ মনে হলেও এটা ঠিকই কাজে আসবে।
মস্তিষ্কের চর্চা করুন

e-HostBD Hosting Service

সুডোকু বা ক্রসওয়ার্ড জাতীয় খেলা ব্যবহার করে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখুন সব সময়। গবেষকদের তৈরি করা “লুমিনোসিটি” নামের কিছু খেলা আছে যেগুলো ব্যবহার করতে পারেন কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহারকারিরা। এগুলো মস্তিষ্কের ওপর ঠিক কিভাবে কাজ করে তা জানা না থাকলেও দেখা গেছে, ১০ ঘণ্টা ব্যবহারে এগুলো ব্যবহারকারীর স্মৃতিশক্তি ৯৭ শতাংশ উন্নতি করতে পারে।
সিসেরোর পদ্ধতি ব্যবহার করুন

এই পদ্ধতির আরেকটি নাম হল মেমোরি প্যালেস। দারশনিক সিসেরো দ্যা ওরাটোরে রচনায় এর উল্লেখ করেন এবং রোমানদের মাঝে এই পদ্ধতির প্রচলন ছিল। এ পদ্ধতিটি হল এই রকম- চিন্তা করুন আপনি আপনার পরিচিত এবং মুখস্থ একটি জায়গার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সেটা হতে পারে আপনার অতি পরিচিত বেডরুম। কোনও একটি বিষয় (কোনও মুখ, সংখ্যা বা তথ্য) মনে রাখতে চাইলে মনে মনে আপনার বেডরুমের কথা চিন্তা করুন এবং যে কোনও একটি স্থানে ওই বিষয়টিকে স্থাপন করুন। এরপর যখন আবার সেটা মনে করার দরকার হবে তখন আবারও আপনার বেডরুমের কথা মনে করুন এবং সেই বিষয়টিকে কোথায় স্থাপন করেছিলেন সেটা ভাবুন। প্রথম প্রথম হয়ত এই পদ্ধতি ব্যবহারে কোনও কিছু মনে রাখা কঠিন হবে কিন্তু একবার অভ্যাস হয়ে গেলে এর ব্যবহারে আশ্চর্য উন্নতি হবে আপনার স্মৃতিশক্তির।
বেকার-বেকার পদ্ধতির ব্যবহার

এটা হল একটা মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা যেখানে দুই দল মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়। তাদের এক দলকে একটি মানুষের ছবি দেখিয়ে বলা হয় তিনি পেশায় একজন বেকার (রুটি-প্রস্তুতকারক)। ওপর দলকে একই মানুষের ছবি দেখিয়ে বলা হয় তার নাম বেকার। পরবর্তীতে আবার যখন তাদেরকে এই ছবি দেখান হয়, তখন প্রথম দলের মানুষরা মনে করতে পারেন ওই ব্যক্তির পেশা। কিন্তু যাদেরকে বলা হয়েছিল ওই ব্যক্তির নাম বেকার, তারা তুলনামুলকভাবে কম মনে রাখতে পেরেছেন। এর কারণ কি? এর কারণ হল, পেশা যখন বেকার, তা জানার পর পরই মস্তিষ্কে ওই পেশার সাথে জড়িত ছবি (রুটি তৈরি, রান্নাঘর, অ্যাপ্রন) এসে পড়ে এবং ওই তথ্যের সাথে ছবি থাকায় তা পুনরায় মনে করা সহজ হয়। এই পদ্ধতিতে আপনিও কোনও তথ্য মনে রাখতে হলে তার ব্যাপারে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু ছবি মনে করতে পারেন। ফলে এগুলো স্মৃতিতে থাকবে ভালোভাবে।
ছোট একটা ঘুম দিন

আমরা মনে করি ঘুমালে হয়তো কিছুটা কাজের ক্ষতি হয়। কিন্তু মস্তিষ্ক যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন তাকে বিশ্রাম না দিলেই বরং স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কাজের ক্ষতি হবে। NASA তাদের এক গবেষণায় দেখে যারা বিকেলে একটু বেশি সময় এভাবে ঘুমিয়ে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিচ্ছেন তাদের স্মৃতি ভালো থাকে। ২০০৮ সালে fMRI ব্যবহার করে আরেক গবেষণায় জানা যায়, যারা বিকেলের দিকে একটু ঘুমিয়ে নেন তাদের চাইতে যারা সারদিন টানা কাজ করেন তাদের ভুলে যাবার প্রবণতা বেশি হয়।
মনোযোগ দিন

কোনও বিষয় মনে রাখতে হলে তার প্রতি মনোযোগ দিতেই হবে। অথচ এখন আমাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায় এতসব উপায়ে যে এই সাধারন কাজটা করতেই আমাদের কষ্ট হয়ে যায়। মনোযোগ না থাকলে একটু একটু করে আমাদের স্মৃতিশক্তি খারাপ হয়েই যাবে অনিবার্যভাবে তাই কনকিছু মনে রাখতে চাইলে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে চেষ্টা করুন।

“আমাদের ভুলে যাওয়ার প্রবনতাই বলে দেয় আমরা কত ব্যস্ত,” বলেন জেল্ডি এস. ট্যান। Beth Israel Deaconess Medical Center এর মেমোরি ডিজঅর্ডার ক্লিনিকের এই ডিরেক্টর রিডারস ডাইজেস্টকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন এই কথা। “আমরা যখন মনোযোগ দিচ্ছিনা তখন আমাদের গড়ে তোলা স্মৃতি খুব একটা শক্ত হচ্ছে না এবং পরে তা মনে করতে গিয়েও আমাদের সমস্যা হচ্ছে”।
ধ্যান করুন

অনেক বেশি তথ্যের ভিড়ে দিশেহারা হয়ে আছে আপনার মন? প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট ধ্যান বা মেডিটেশনের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠতে পারেন এই সমস্যা। GRE পরীক্ষার্থীদের ওপরে পরিচালিত ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, ধ্যানের মাধ্যমে তাদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার ক্ষমতা বেড়ে গেছে। ২০১২ সালে MIT এর গবেষকরা মানুষের মস্তিষ্কে এমন একটি সার্কিট আবিষ্কার করেন যার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি সংরক্ষণ সম্ভব হয়। আর যখন মনোযোগ ভাল থাকে তখনই এই সার্কিট সর্বোত্তম ফলাফল দেয়






eHostBD Hosting

মন্তব্য করুন