Best Reseller Hosting Service in BD
মোট পোস্ট সংখ্যা: 10  »  মোট কমেন্টস: 7  
Facebook
Google Plus
Twitter
Linkedin

সেরা কিছু ব্লগিং টিপস [বিগেনার টু প্রো]

ব্লগিং এবং এসইও উভয়ই একে অপরের সাথে জড়িত। ব্লগিং করে টাকা উপার্জন করতে হলে অবশ্যই এসইও শিখতে হবে। একজন ব্লগার তখনই সফল হয় যখন সে এসইও সঠিকভাবে শিখতে পারে এবংং বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে। শিরোনাম দেখে আপনি লেখাটি পড়তে এসেছেন, কারণ আপনি একজন সফল ব্লগার বা ডিজিটাল মার্কেটার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান, যদি আপনার লক্ষ থাকে সফল হবার, তবে কঠোর পরিশ্রম অবশ্যই করতে হবে। আপনিও তাই বিশ্বাস করেন কিন্তু আমি এই কথার সাথে আরো একটি কথা যুক্ত করতে চাই তা হলো – শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, সফল হতে প্রয়োজন পরিকল্পিত পরিশ্রম। অন্যান্য সকল কাজের মতো এই কাজের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। যত দিন যাচ্ছে ততই এই সেক্টরে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। মাত্র একটি কীওয়ার্ড দিয়ে হাজার হাজার প্রতিযোগির সাথে পাল্লা দিয়ে আমাকে ভিসিটর নিজের ব্লগে নিয়ে আসতে হবে।

আপনি নিশ্চয়ই জানেন এই প্রতিযোগিতা কোথায় হবে? এই প্রতিযোগিতার মাঠ হচ্ছে গুগল সার্চ ইঞ্জিন এবং প্রতিযোগীদের অস্ত্র আর সৈন্য হচ্ছে SEO. এই লড়াই মোটেও সহজ নয়, কারণ প্রতিপক্ষ মহা শক্তিশালী আমাকে প্রথমে নিজেকে যুদ্ধ করতে হবে (অন পেইজ এসইও), এরপরে সৈন্য নামিয়ে দিতে হবে (অফ পেইজ এসইও)। তারপরও যদি সবকিছু সঠিক পরিকল্পনা মাফিক না হয়, পরাজয় নিশ্চিত। আর এখানে পরাজয় মানে নতুন কিছু শেখা তবে বারবার পরাজিত হলে সময় ও অর্থ দুইটাই জলে যাবে।

আমি জানি আপনারা জিততে চান, তাই আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু পরামর্শ দিতে চাই এখানে। এজন্য আপনাকে নতুন হতে হবে, অভিজ্ঞতা থাকলে তো বস আপনি। তো চলুন শুরু করা যাক।

e-HostBD Hosting Service

প্রি ব্লগিং কিনোটস –
১। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিন
২। প্রি এস ই ও প্লানিং
৩। কী ওয়ার্ড রিসার্চ
৪। কম্পিটিটর যাযাই
৫। চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত
৬। কাজের রূপরেখা করুন
৭। কাজ শুরু করা

🌐 প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিন – আপনার কোনো বন্ধু বা অনলাইন হতে জেনেছেন যে ব্লগিং খুব ভালো একটি পেশা। শুধুমাত্র ব্লগ লিখেই হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা যায়। কিন্তু আপনি যখন এই বিষয়ে আরো বেশি স্টাডি করলেন তখন বুঝতে পারলেন নতুন কিছু অজানা তথ্য। শুধু লিখলেই হবে না, সেই লেখা পড়ার জন্য পাঠক প্রয়োজন। আর পাঠক সাপ্লাই করে সারচ ইঞ্জিন এবং এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পুর্ন হয় SEO এর মাধ্যমে।
মোটামুটি একটা ধারণা পেলেন এখন প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই কাজ আপনার জন্য উপযুক্ত কি না। আপনি যদি এই কাজ শুরু করেন তবে শেষ করে আসতে পারবেন কি না। প্রথমেই আপনাকে মাইন্ড সেটাপ দিতে হবে, আপনি ব্লগিং জগতে পা ফেলবেন নাকি ফেলবেন না। সময় নিন, পজেটিব মনে ভাবুন, প্রাথমিক ভাবে এনালাইসিস শুরু করে দিন। অবশ্যই ভালো একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যা কিনা সফলতার পথ তৈরি করে দিবে।

★ প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিন:-
* আপনি এই কাজের জন্য এখনি উপযুক্ত কি না?
* এই কাজের প্রতি আপনার মন সায় দিচ্ছে তো?
* এই বিষয়ে আপনি পড়াশোনা করতে আগ্রহী আছেন কি না?
* ভাষাগত পারদর্শীতা সহায়ক হবে কি না?
* এই পথে খরচ করার মতো অর্থ এবং সময় আপনার আছে কি না?
* কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাজেটস বা ইকুইপমেন্ট আপনার আছে কি?
* উপার্জন নয়, শিক্ষাই অমূল্য সম্পদ – এই মহান উক্তিটি মানতে পারবেন কি না?

🌐 প্রি এসইও প্লানিং- আপনি যদি প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে এই কাজ আপনার জন্য পারফেক্ট তবে আপনার পরবর্তী কাজ প্রি প্লানিং করা। বেশি বেশি তথ্য গুগলে সার্চ করতে হবে, একই তথ্য সম্পর্কিত ২০+ আলাদা আলাদা ব্লগের লেখা পড়তে হবে। একই তথ্য কোন ব্লগ কিভাবে উপস্থাপন করছে সেটা বুঝার চেষ্টা করতে হবে। কেনো একই প্রশ্নের উত্তর সবাই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দিচ্ছে? কারণ এটাই সৃজনশীলতা। সব লেখা কেনো সৃজনশীল? কারন সারচ ইঞ্জিন সৃজনশীল লেখাকে মূল্য দেয়। আরো লক্ষ করুন, কার লেখা পড়তে আপনার ভালো লাগছে, খুব সহজে বুঝা যাচ্ছে তার উপস্থাপনাগুলো। আমি প্রি এসইও প্লানিং বলতে এটা বুঝিয়েছি – যে সারচ ইঞ্জিনে কাজ করবো সেই সারচ ইঞ্জিন থেকেই পরিস্কার ধারণা নেয়া যে সে কি পছন্দ করে আর কি অপছন্দ করে। এটা একটা প্রি ওয়ারক লারনিং প্রিরিয়ডও বলতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে, গুগল সার্চে গিয়ে লিখুন ” Best 10 nikkon camera 2020 “। এবার গুগল সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে রেজাল্ট দেখাবে। আপনি গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকের ২০-৩০ টি সাইট নিয়ে এনালাইসিস শুরু করে দিন। যেমন তাদের কি কি ডিফারেন্স আছে :- লেখায়, ছবিতে, ভিডিওতে, টাইটেলে, পার্মালিংকে ইত্যাদি সকল বিষয়ে অন্তত ৩০ দিন এনালাইসিস করুন। আমি বিশ্বাস করি এটা করলে আপনার স্কিল্ড লেভেল অনেক বেশি বেড়ে যাবে। প্রতিদিন আলাদা আলদা বিষয়ে এনালাইসিস করুন, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হবে।

★ প্রি এসইও প্লানিং কি কি করবেন :-
* একই তথ্য সম্পর্কিত সাইটগুলোর লেখার মান বিচার করুন। পড়া সহজ / কঠিন এর কারণ খুঁজে বের করুন।
* কন্টেন্ট এর টাইটেল গুলোর ভিতর থেকে পছন্দের টাইটেল ফরম্যাট বের করুন
* সাইটগুলোর স্পিড এবং ডিজাইন লেভেল বুঝার চেষ্টা করুন।
* কন্টেন্ট এর ফরম্যাট এনালাইসিস করুন, প্যারাগ্রাফ এবং হেডিং পজিশন এনালাইসিস করুন। মোটকথা সম্পুর্ন কন্টেন্ট পড়ুন, বুঝার চেষ্টা করুন।
* গ্রামার ঠিক আছে কিনা বার বার পড়ে দেখুন, তাতে নিজের শেখা হয়ে যাবে।
কীওয়ার্ড – এবার আপনাকে কীওয়ার্ড রিসার্চ করা শিখতে হবে। আপনি কোন নিসকে টার্গেট করে লিখতে চান, সেই নিস থেকে আপনাকে কীওয়ার্ড বের করে নিতে হবে। যদি আপনি মোবাইল নিস নিয়ে কাজ করতে চান, যেমন মোবাইলে কেস নিয়ে, স্ক্রিন প্রটেক্টর নিয়ে তবে আপনাকে ঐ ধরনের কীওয়ার্ড সিলেক্ট করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ” best 5 mobile screen protectors ” এই কীওয়ার্ড টা ধরা যাক। আপনি যদি এই বিষয়ে লিখতে চান তবে আপনি এই বিষয়ে রিসার্চ করবেন। সবসময় টং টেইল কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবেন। যেমন, ” best 10 screen protectors for oneplus 8 pro “।

আপনি যেকোনো কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করার আগে তার ভলিউম জেনে নিবেন, আমি সাজেশন দিবো ২০০ + ভলিউম এর কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন না, এতে সাইট rank করবে না। তাই খুব সতর্কতার সাথে কীওয়ার্ড বের করে কাজ করবেন। এ কাজ করার জন্য বেশ কিছু ফ্রি এবং পেইড টুলস এর প্রয়োজন হবে। আমি তালিকা দিয়ে দিচ্ছি-

★ Surfer Extension (গুগল ক্রোম)

★ Ahrefs (পেইড)

★ কম্পিটিটর যাচাই – আপনি অনেক এনালাইসিস করেছেন, কি কি কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন তার একটা তালিকাও করে ফেলেছেন নিশ্চয়ই। এখন আপনার কাজ ঐ কীওয়ার্ড নিয়ে গুগলে প্রথম পেইজে থাকা সাইটিগুলো কারণ এরাই আপনার প্রতিদন্দি। এদের সরিয়ে আপনাকে যায়গা করে নিতে হবে। আমি আগেই বলেছিন, সারচ ভলিউম মাসে ০ হতে ৫০ আছে এমন কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে হবে, তাহলেই সহজে রেংক করা যাবে।

আপনি প্রথমে আপনার সিলেক্ট করা কীওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ করুন, রেজাল্ট লিস্ট হতে প্রথম ১০ টা সাইট এর ঠিকানা বা ইউ আর এল নোট করে নিন। তবে লিস্টে যদি কোনো ই-কমার্স সাইট থাকে যেমন, এমাজন তাহলে তাদের তালিকা হতে বাদ দিন।

আপনি এখন নোট করা ১০ টি সাইট নিয়ে এনালাইসিস শুরু করে দিন। তারা কি ধরনের লেখা লিখেছে, তাদের লেখায় শব্দ সংখ্যা, তারা কোথায় কোথায় ব্যকলিংক করেছে, তাদের কি কি কীওয়ার্ড গুগলে রেংক আছে ইত্যাদি সকল বিষয়ে অনুসন্ধান করুন। যদি মনে হয় এদের সাথে এই কী ওয়ার্ড দিয়ে লড়াই করে জয়ী হওয়া পসিবল না, তবে পরিস্কার কথা এই কীওয়ার্ড বাদ দিতে হবে এবং নতুন কীওয়ার্ড খুঁজে বের করা শুরু করতে হবে।

★ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত – যদি আপনার কীওয়ার্ড হয়ে যায়, তবে আপনি এখন প্রস্তুত। এখন আপনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমি এই কাজে নামতে যাচ্ছি এবং কাজটা শেষ করেই আমাকে উঠে আসতে হবে। এই সিদ্ধান্ত আর পরিবর্তন হবে না। আপনি কীওয়ার্ড এনালাইসিস করেছেন, নিস চয়েজ করেছেন, কম্পিটিটর দের সম্পর্কে জেনেছেন তাই এখন আপনি মোটামুটি জানেন আপনাকে কি করতে হবে। তাই এখন আর কোন কাজ নয়, শুধু একটা সিদ্ধান্ত নিন, আপনি ব্লগিং করতে যাবেন নাকি যাবেন না, ব্যস এতটুকুই।

★ কাজের রূপরেখা তৈরি- আপনার নোট ওপেন করুন, নিশ্চয়ই এই বিষয়ে কলমের কালি যথেষ্ট ক্ষয় হয়েছে। নিশ্চয়ই একটি নিস সিলেক্ট করেছেন, সাথে অনেকগুলো কীওয়ার্ড ও নোট করেছেন। এখন আপনার কাজ কাজের প্লানিং করা, যেমন ব্লগের ডিজাইন কেমন হবে, ডোমেইন এর নাম কি নিবেন, হোস্টিং কাদের থেকে নিবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এই প্লানিং গুলো চলুক এবং এর সাথে সাথে অন্তত ১০ টি কন্টেন্ট লেখার কাজ শেষ করুন। নিজে লিখতে না পারলে ভালো কোন রাইটার দিয়ে লিখিয়েন নিন। আপনি ফাইভার বা আপওয়ার্ক এ ভালো এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অনেক রাইটার পেয়ে যাবেন।

সার্চ করুন টেকটিউনস জুড়ে..
জ্যাকেট
ডেস্ক
ল্যান্সার
ইভেন্ট
ADs
Home
জোসস
ট্রেন্ডিং
হট
টপ
ডিসকভার
ADs by Techtunes ADs

নতুন ব্লগারদের জন্য ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রি ব্লগিং পরামর্শ
টিউন বিভাগ এসইও
প্রকাশিত

Level 0
আবির মিলন

ব্লগিং এবং এসইও উভয়ই একে অপরের সাথে জড়িত। ব্লগিং করে টাকা উপার্জন করতে হলে অবশ্যই এসইও শিখতে হবে। একজন ব্লগার তখনই সফল হয় যখন সে এসইও সঠিকভাবে শিখতে পারে এবংং বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে।

ADs by Techtunes ADs

শিরোনাম দেখে আপনি লেখাটি পড়তে এসেছেন, কারণ আপনি একজন সফল ব্লগার বা ডিজিটাল মার্কেটার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান, যদি আপনার লক্ষ থাকে সফল হবার, তবে কঠোর পরিশ্রম অবশ্যই করতে হবে। আপনিও তাই বিশ্বাস করেন কিন্তু আমি এই কথার সাথে আরো একটি কথা যুক্ত করতে চাই তা হলো – শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, সফল হতে প্রয়োজন পরিকল্পিত পরিশ্রম। অন্যান্য সকল কাজের মতো এই কাজের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। যত দিন যাচ্ছে ততই এই সেক্টরে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। মাত্র একটি কীওয়ার্ড দিয়ে হাজার হাজার প্রতিযোগির সাথে পাল্লা দিয়ে আমাকে ভিসিটর নিজের ব্লগে নিয়ে আসতে হবে।

আপনি নিশ্চয়ই জানেন এই প্রতিযোগিতা কোথায় হবে? এই প্রতিযোগিতার মাঠ হচ্ছে গুগল সার্চ ইঞ্জিন এবং প্রতিযোগীদের অস্ত্র আর সৈন্য হচ্ছে SEO. এই লড়াই মোটেও সহজ নয়, কারণ প্রতিপক্ষ মহা শক্তিশালী আমাকে প্রথমে নিজেকে যুদ্ধ করতে হবে (অন পেইজ এসইও), এরপরে সৈন্য নামিয়ে দিতে হবে (অফ পেইজ এসইও)। তারপরও যদি সবকিছু সঠিক পরিকল্পনা মাফিক না হয়, পরাজয় নিশ্চিত। আর এখানে পরাজয় মানে নতুন কিছু শেখা তবে বারবার পরাজিত হলে সময় ও অর্থ দুইটাই জলে যাবে।

আমি জানি আপনারা জিততে চান, তাই আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু পরামর্শ দিতে চাই এখানে। এজন্য আপনাকে নতুন হতে হবে, অভিজ্ঞতা থাকলে তো বস আপনি। তো চলুন শুরু করা যাক।

প্রি ব্লগিং কিনোটস –
১। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিন
২। প্রি এস ই ও প্লানিং
৩। কী ওয়ার্ড রিসার্চ
৪। কম্পিটিটর যাযাই
৫। চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত
৬। কাজের রূপরেখা করুন
৭। কাজ শুরু করা

🌐 প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিন – আপনার কোনো বন্ধু বা অনলাইন হতে জেনেছেন যে ব্লগিং খুব ভালো একটি পেশা। শুধুমাত্র ব্লগ লিখেই হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা যায়। কিন্তু আপনি যখন এই বিষয়ে আরো বেশি স্টাডি করলেন তখন বুঝতে পারলেন নতুন কিছু অজানা তথ্য। শুধু লিখলেই হবে না, সেই লেখা পড়ার জন্য পাঠক প্রয়োজন। আর পাঠক সাপ্লাই করে সারচ ইঞ্জিন এবং এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পুর্ন হয় SEO এর মাধ্যমে।
মোটামুটি একটা ধারণা পেলেন এখন প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই কাজ আপনার জন্য উপযুক্ত কি না। আপনি যদি এই কাজ শুরু করেন তবে শেষ করে আসতে পারবেন কি না। প্রথমেই আপনাকে মাইন্ড সেটাপ দিতে হবে, আপনি ব্লগিং জগতে পা ফেলবেন নাকি ফেলবেন না। সময় নিন, পজেটিব মনে ভাবুন, প্রাথমিক ভাবে এনালাইসিস শুরু করে দিন। অবশ্যই ভালো একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যা কিনা সফলতার পথ তৈরি করে দিবে।

★ প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিন:-
* আপনি এই কাজের জন্য এখনি উপযুক্ত কি না?
* এই কাজের প্রতি আপনার মন সায় দিচ্ছে তো?
* এই বিষয়ে আপনি পড়াশোনা করতে আগ্রহী আছেন কি না?
* ভাষাগত পারদর্শীতা সহায়ক হবে কি না?
* এই পথে খরচ করার মতো অর্থ এবং সময় আপনার আছে কি না?
* কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাজেটস বা ইকুইপমেন্ট আপনার আছে কি?
* উপার্জন নয়, শিক্ষাই অমূল্য সম্পদ – এই মহান উক্তিটি মানতে পারবেন কি না?

🌐 প্রি এসইও প্লানিং- আপনি যদি প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে এই কাজ আপনার জন্য পারফেক্ট তবে আপনার পরবর্তী কাজ প্রি প্লানিং করা। বেশি বেশি তথ্য গুগলে সার্চ করতে হবে, একই তথ্য সম্পর্কিত ২০+ আলাদা আলাদা ব্লগের লেখা পড়তে হবে। একই তথ্য কোন ব্লগ কিভাবে উপস্থাপন করছে সেটা বুঝার চেষ্টা করতে হবে। কেনো একই প্রশ্নের উত্তর সবাই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দিচ্ছে? কারণ এটাই সৃজনশীলতা। সব লেখা কেনো সৃজনশীল? কারন সারচ ইঞ্জিন সৃজনশীল লেখাকে মূল্য দেয়। আরো লক্ষ করুন, কার লেখা পড়তে আপনার ভালো লাগছে, খুব সহজে বুঝা যাচ্ছে তার উপস্থাপনাগুলো। আমি প্রি এসইও প্লানিং বলতে এটা বুঝিয়েছি – যে সারচ ইঞ্জিনে কাজ করবো সেই সারচ ইঞ্জিন থেকেই পরিস্কার ধারণা নেয়া যে সে কি পছন্দ করে আর কি অপছন্দ করে। এটা একটা প্রি ওয়ারক লারনিং প্রিরিয়ডও বলতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে, গুগল সার্চে গিয়ে লিখুন ” Best 10 nikkon camera 2020 “। এবার গুগল সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে রেজাল্ট দেখাবে। আপনি গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকের ২০-৩০ টি সাইট নিয়ে এনালাইসিস শুরু করে দিন। যেমন তাদের কি কি ডিফারেন্স আছে :- লেখায়, ছবিতে, ভিডিওতে, টাইটেলে, পার্মালিংকে ইত্যাদি সকল বিষয়ে অন্তত ৩০ দিন এনালাইসিস করুন। আমি বিশ্বাস করি এটা করলে আপনার স্কিল্ড লেভেল অনেক বেশি বেড়ে যাবে। প্রতিদিন আলাদা আলদা বিষয়ে এনালাইসিস করুন, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হবে।

★ প্রি এসইও প্লানিং কি কি করবেন :-
* একই তথ্য সম্পর্কিত সাইটগুলোর লেখার মান বিচার করুন। পড়া সহজ / কঠিন এর কারণ খুঁজে বের করুন।
* কন্টেন্ট এর টাইটেল গুলোর ভিতর থেকে পছন্দের টাইটেল ফরম্যাট বের করুন
* সাইটগুলোর স্পিড এবং ডিজাইন লেভেল বুঝার চেষ্টা করুন।
* কন্টেন্ট এর ফরম্যাট এনালাইসিস করুন, প্যারাগ্রাফ এবং হেডিং পজিশন এনালাইসিস করুন। মোটকথা সম্পুর্ন কন্টেন্ট পড়ুন, বুঝার চেষ্টা করুন।
* গ্রামার ঠিক আছে কিনা বার বার পড়ে দেখুন, তাতে নিজের শেখা হয়ে যাবে।

ADs by Techtunes ADs

🌐 কীওয়ার্ড – এবার আপনাকে কীওয়ার্ড রিসার্চ করা শিখতে হবে। আপনি কোন নিসকে টার্গেট করে লিখতে চান, সেই নিস থেকে আপনাকে কীওয়ার্ড বের করে নিতে হবে। যদি আপনি মোবাইল নিস নিয়ে কাজ করতে চান, যেমন মোবাইলে কেস নিয়ে, স্ক্রিন প্রটেক্টর নিয়ে তবে আপনাকে ঐ ধরনের কীওয়ার্ড সিলেক্ট করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ” best 5 mobile screen protectors ” এই কীওয়ার্ড টা ধরা যাক। আপনি যদি এই বিষয়ে লিখতে চান তবে আপনি এই বিষয়ে রিসার্চ করবেন। সবসময় টং টেইল কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবেন। যেমন, ” best 10 screen protectors for oneplus 8 pro “।

আপনি যেকোনো কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করার আগে তার ভলিউম জেনে নিবেন, আমি সাজেশন দিবো ২০০ + ভলিউম এর কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন না, এতে সাইট rank করবে না। তাই খুব সতর্কতার সাথে কীওয়ার্ড বের করে কাজ করবেন। এ কাজ করার জন্য বেশ কিছু ফ্রি এবং পেইড টুলস এর প্রয়োজন হবে। আমি তালিকা দিয়ে দিচ্ছি-

★ Surfer Extension (গুগল ক্রোম)

★ Ahrefs (পেইড)

★ কম্পিটিটর যাচাই – আপনি অনেক এনালাইসিস করেছেন, কি কি কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন তার একটা তালিকাও করে ফেলেছেন নিশ্চয়ই। এখন আপনার কাজ ঐ কীওয়ার্ড নিয়ে গুগলে প্রথম পেইজে থাকা সাইটিগুলো কারণ এরাই আপনার প্রতিদন্দি। এদের সরিয়ে আপনাকে যায়গা করে নিতে হবে। আমি আগেই বলেছিন, সারচ ভলিউম মাসে ০ হতে ৫০ আছে এমন কীওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে হবে, তাহলেই সহজে রেংক করা যাবে।

আপনি প্রথমে আপনার সিলেক্ট করা কীওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ করুন, রেজাল্ট লিস্ট হতে প্রথম ১০ টা সাইট এর ঠিকানা বা ইউ আর এল নোট করে নিন। তবে লিস্টে যদি কোনো ই-কমার্স সাইট থাকে যেমন, এমাজন তাহলে তাদের তালিকা হতে বাদ দিন।

আপনি এখন নোট করা ১০ টি সাইট নিয়ে এনালাইসিস শুরু করে দিন। তারা কি ধরনের লেখা লিখেছে, তাদের লেখায় শব্দ সংখ্যা, তারা কোথায় কোথায় ব্যকলিংক করেছে, তাদের কি কি কীওয়ার্ড গুগলে রেংক আছে ইত্যাদি সকল বিষয়ে অনুসন্ধান করুন। যদি মনে হয় এদের সাথে এই কী ওয়ার্ড দিয়ে লড়াই করে জয়ী হওয়া পসিবল না, তবে পরিস্কার কথা এই কীওয়ার্ড বাদ দিতে হবে এবং নতুন কীওয়ার্ড খুঁজে বের করা শুরু করতে হবে।

★ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত – যদি আপনার কীওয়ার্ড হয়ে যায়, তবে আপনি এখন প্রস্তুত। এখন আপনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমি এই কাজে নামতে যাচ্ছি এবং কাজটা শেষ করেই আমাকে উঠে আসতে হবে। এই সিদ্ধান্ত আর পরিবর্তন হবে না। আপনি কীওয়ার্ড এনালাইসিস করেছেন, নিস চয়েজ করেছেন, কম্পিটিটর দের সম্পর্কে জেনেছেন তাই এখন আপনি মোটামুটি জানেন আপনাকে কি করতে হবে। তাই এখন আর কোন কাজ নয়, শুধু একটা সিদ্ধান্ত নিন, আপনি ব্লগিং করতে যাবেন নাকি যাবেন না, ব্যস এতটুকুই।

★ কাজের রূপরেখা তৈরি- আপনার নোট ওপেন করুন, নিশ্চয়ই এই বিষয়ে কলমের কালি যথেষ্ট ক্ষয় হয়েছে। নিশ্চয়ই একটি নিস সিলেক্ট করেছেন, সাথে অনেকগুলো কীওয়ার্ড ও নোট করেছেন। এখন আপনার কাজ কাজের প্লানিং করা, যেমন ব্লগের ডিজাইন কেমন হবে, ডোমেইন এর নাম কি নিবেন, হোস্টিং কাদের থেকে নিবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এই প্লানিং গুলো চলুক এবং এর সাথে সাথে অন্তত ১০ টি কন্টেন্ট লেখার কাজ শেষ করুন। নিজে লিখতে না পারলে ভালো কোন রাইটার দিয়ে লিখিয়েন নিন। আপনি ফাইভার বা আপওয়ার্ক এ ভালো এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অনেক রাইটার পেয়ে যাবেন।

ADs by Techtunes ADs

কনটেন্ট রিলেটেড ভিডিও, ইমেজ, ইনফোগ্রাফিক এর কাজ শুরু করে দিন। কত শব্দের কন্টেন্ট লিখবেন সেটা কম্পিটিটর দেখলেই বুঝবেন আগেই বলেছি। কিছু সোস্যালমিডিয়া একাউন্ট ওপেন করুন, নিয়মিত টিউন করতে থাকুন কারণ পরবর্তীতে কাজ সহজ হয়ে যাবে। অন্তত ৪-৫ টা ওয়েব ২.০ ব্লগ শুরু করুন, প্রতিটাতে ৫ টা ন্যুনতম টিউন করুন, গুগল ইন্ডেক্সিং করিয়ে নিন, সোশাল শেয়ার করতে থাকুন। এভাবে নিজের কাজের ভবিষ্যৎ রুপরেখা করে নিন, দেখবেন কাজটা সহজ হয়ে গেছে।

★ কাজ শুরু করে দিন। একটি ডোমেইন নাম নিশ্চয়ই চূড়ান্ত করে ফেলেছেন, হোস্টিং ও কাদের থেকে নিবেন ভেবে রেখেছেন। এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত লিখবো। তবে ভালো হোস্টিং সার্ভিস পেতে আমি বলু ১৩০০ টাকায় ২ জিবি লাইট স্পিদ সার্ভারের হোস্টিং নিন হোস্টিংনিবো থেকে। এখন ডিজাইনের কাজ শেষ করুন, নিজেও পারবেন যদি ওয়ার্ডপ্রেস সি এম এস ব্যবহার করেন। ব্লগিং এর জন্য এটা ভালো সমাধান। যে ধরনের ডিজাইন করেন না কেনো, হোস্টিং যেনো দ্রুতগতির হয়। সাইট লোড দ্রুত না হলে, ভিসিটর কমে যায় ফলে গুগল রেংক থেকে ডাউন করে দেয়। আপনি এখন মোটামুট ব্লগিং এবং এস ই ও সকল বিষয়ে ধারনা পেয়েছেন।

পরিশেষে, , একটা পরামর্শ দিতে চায়, আপনার ব্লগিং কন্টেন্ট কে অাকর্ষনীয় করে লিখতে হবে। নতুবা আপনি অডিয়্যান্স পাবেন না, যারা আসবে তারাও থাকবে। তাই ভাবুন – তারা কি চাচ্ছে এবং আপনি তাদের কি দিচ্ছেন। যদি শুরুটা ভালো হয় তবে শেষটাও অবশ্যই সুন্দর হবে। সফলতায় হোক একমাত্র উদ্দেশ্য, হ্যাপি ব্লগিং।

ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না ...
e-HostBD Hosting Service
eHostBD Hosting

মন্তব্য

মন্তব্য করুন