Best Reseller Hosting Service in BD
আমি বাংলাদেশী
মোট পোস্ট সংখ্যা: 1  »  মোট কমেন্টস: 0  
Facebook
Google Plus
Twitter
Linkedin

কিভাবে আপনার কম্পিউটারের গতি ধরে রাখবেন?

কম্পিউটার এখন আমাদের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বহুমাত্রিক ব্যবহারিক ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র। এই একটি যন্ত্র দিয়ে অফিসিয়াল কাজ, বিনোদন, যোগাযোগ, ভিডিও সম্পাদন থেকে শুরু করে নানাবিধ কাজ করা যায়। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কম্পিউটার নামক এই যন্ত্রটি আমাদের জীবনকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। আর সেকারনেই এই যন্ত্রটির যত্ন আমাদের অতিব প্রয়োজন। একটা মানুষ যেমন তার বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার কর্মক্ষতা হ্রাস পায় ঠিক তেমনি একটি কম্পিউটার আপনি আজ বাজার হতে ক্রয় করলেন কিন্তু যত দিন যাবে তত এর গতি কমতে থাকবে। তবে আপনি যদি একটু সচেতন হন এবং কিছু কার্যকর কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেন তাহা হইলে আপনি আপনার কম্পিউটারটির নতুন অবস্থায় যে গতি ছিল তা দীর্ঘদিন পরও সেই গতি আপনি আপনার কম্পিউটার হতে পেতে পারেন।

How to Keep Computer Fast

How to Keep Computer Fast

১। আপনার কম্পিউটারের মেমরী ও প্রসেসরটি একটু ভাল ও উচ্চ গতির হওয়া বাঞ্ছনীয়।
২। আপনার কম্পিউটারের মেইনবোর্ডটি একটু ভাল ব্রান্ডের হতে হবে। যেমন: ইন্টেল, আসুস ও গিগাবাইট-এর মেইনবোর্ড যে গতিতে কাজ করবে কমদামী কিছু চায়না মেইনবোর্ড সেই গতিতে কাজ করবে না। একটি কম্পিউটার মূলত: মেইনবোর্ডকে কেন্দ্র করেই তার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত করে তাই আপনার কম্পিউটারের মেইনবোর্ডটি একটু ভালমানের ও ভাল ব্রান্ডের নিতে চেষ্ঠা করবেন।
৩। আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্কটি অবশ্যই ব্যাডসেক্টরমুক্ত হতে হবে। হার্ডডিস্কে যদি ব্যাডসেক্টর থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার কম্পিউটারটি ধীরগতির হয়ে যাবে। মনে করুন আপনি একটি দামী প্রাইভেট কার ক্রয় করলেন এবং গাড়ীটি আপনি দ্রুতগতিতে চালাবেন কিন্তু যে রাস্তায় চালাবেন সেটিতে অনেক ছোট-খাট গর্ত রয়েছে তাহলেতো আপনি আপনার দামী গাড়ীটি দ্রুতগতিতে চালাতে পারবেন না। ঠিক তেমনি আপনি একটি দামী কম্পিউটার ক্রয় করলেন অনেক স্পীডে কাজ করবে কিন্তু আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে অনেক ব্যাডসেক্টর আছে তাহলেতো আপনার কম্পিউটার ধীরগতিতে কাজ করবে। তাই আপনাকে অবশ্যই একটি ব্যাডসেক্টরমুক্ত হার্ডডিস্ক ব্যবহার করতে হবে।
৪। আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের সাথে সফটওয়্যারের একটি সামঞ্জস্য থাকতে হবে। ধরুন আপনার কম্পিউটারটি ডুয়েল কোর এবং মেমোরী ১ জিবি আর আপনি তাতে উইন্ডোজ ১০সহ যাবতীয় লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম দিলেন তাহলে আপনার কম্পিউটারটির গতি কমে যাবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার পিসির হার্ডওয়্যারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সফটওয়্যার দিতে হবে।
৫। সি ড্রাইভটিতে যথেষ্ট পরিমান জায়গা খালি রাখতে হবে। আপনি যদি উইন্ডোজ ৭ বা তার পরবর্তী অপারেটিং সিস্টেম দিতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই সি ড্রাইভটি কমপক্ষে ৫০ জিবি রাখতে হবে। কারন উইন্ডোজ তার কাজের প্রয়োজনে অনেক সময় মেমোরী পূর্ণ হয়ে গেলে হার্ডড্রাইভের খালী জায়গাকে তার অস্থায়ী মেমোরী হিসেবে ব্যবহার করে। এছাড়া যখন আপনি কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন তখন সেটআপের এক পর্যায়ে ব্রাউজ করে প্রোগ্রাম ফাইল গুলো ছাড়া অন্য ফাইল গুলো ব্রাউজ করা ড্রাইভে চলে যাবে অন্যত্থায় সি ড্রাইভে চলে যাবে এতে করে আপনার পিসিটির সি ড্রাইভ আস্তে আস্তে ভরে যাবে। এতে করে আপনার পিসিটির গতি দিন দিন হ্রাস পেতে থাকবে।
৬। আপনার পিসির গতি বজায় রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই একটি ভাল মানের পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করতে হবে। বাজারে যেসকল কমদামী নিম্নমানের পাওয়ার সাপ্লাই পাওয়া যায় সেগুলি শতভাগ সঠিক পরিমান বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে না। আপনি মনে রাখবেন আপনার হার্ডড্রাইভটি যত সঠিক বিদ্যুৎ পাবে তত দ্রুত গতিতে হার কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করবে।
৭। আপনি আপনার কম্পিউটারটি অবশ্যই ভাইরাসমুক্ত রাখবেন। মনে রাখবেন অনেক টাকা দিয়ে কেনা আপনার দামী কম্পিউটারটি ভাইরাসের কারনে স্লো হয়ে যাবে। আর আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি অধিকাংশ কম্পিউটারই স্লো হয় ভাইরাসের কারনে।
৮। আপনার কম্পিউটার হতে সর্বোচ্চ গতি পেতে চাইলে আপনাকে যাবতীয় ড্রাইভার গুলিকে আপডেট রাখতে হবে।
৯। আপনার পিসির গতি ধরে রাখতে চাইলে আপনাকে অপ্রয়োজনীয় সফওয়্যার ইন্সটল হতে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখবেন আপনার কম্পিউটারে যত বেশী সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন আপনার পিসি তত স্লো হবে।
১০। আপনার পিসিটাকে কমকরে হলেও দুই বৎসর অন্তর একবার নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করবেন।
১১। আপনার পিসিটিকে ডিস্কডিফ্রাগমেন্ট ও স্কেনডিস্ক প্রোগ্রামগুলো চালাতে হবে। এটা কয়দিন পর পর চালাবেন এটা নির্ভর করবে আপনার ব্যবহারের উপর। আপনি যদি বেশী ব্যবহার করেন তাহলে সপ্তাহে একবার করলেই হবে আর যদি তার চেয়ে একটু কম করেন তাহলে মাসে দু’বার করলেই হবে।
১২। আপনার পিসির প্রসেসরের কুলিং ফ্যানটি ঠিক মত ঘুরে কিনা এটা ভাল করে দেখতে হবে। ফ্যানটি যদি ঠিক মত না ঘুরে আর প্রসেসর যদি গরম হয়ে যায় তাহলে আপনার কম্পিউটারটি স্লো হয়ে যাবে।
১৩। আমরা অনেক সময় ডেস্কটপে অনেক ফাইল রাখি এমনকি বড় বড় ভিডিও ফাইলও রেখে দেই। এতে করে কম্পিউটারের ভারচুয়াল মেমোরী ব্যবহার হয়ে কম্পিউটারটি স্লো হয়ে যাবে। তার মানে ডেস্কটপে বেশী ফাইল রাখা যাবে না। আমরা যখন কোন কাজ করব তখন সাময়িক সময়ের জন্য ডেস্কটপে ফাইলটি রাখব কিন্ত যখন কাজ শেষ হয়ে যাবে তখন ফাইলটি অন্যত্র (সি ড্রাইভ ব্যতিত অন্য যেকোন ড্রাইভে) স্থানান্তর করে রাখতে হবে।
১৪। ধরুন আপনি কম্পিউটারটি দীর্ঘক্ষন ধরে চালাচ্ছেন, এতে কম্পিউটারটি একটু স্লো হবে আপনি কম্পিউটারকে রি-ষ্টার্ট দিন দেখবেন কিছুটা গতি ফিরে এসেছে।
১৫। মনে রাখবেন কম্পিউটারের প্রধান শত্রু ধুলা, ধোয়া ও সুর্যের আলো তথা অত্যাধিক তাপ। আপনার কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে দেখবেন অনেক সময় ধুলা পড়ে এতে বিদ্যুৎ প্রবাহের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। এজন্য বৎসরে অন্তত একবার আপনার পিসিটিকে ব্লয়ার দিয়ে পরিস্কার করুন।

পরিশেষে বলব কম্পিউটার একটি বহুমাত্রিক ব্যবহারযোগ্য অতিপ্রয়োজনীয় যন্ত্র। তার রক্ষনাবেক্ষনে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। মনে রাখবেন বাচ্চা জন্মের পর মা যেমন করে তাকে যত্ন করে লালন-পালন করে আপনাকে আপনার পিসিটির প্রতিও তেমনি যত্নশীল হবে। তাহলেই আপনি আপনার পিসিটি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবেন। আর নয়তো আপনার এই দামী ও মূল্যবান যন্ত্রটি অতি অল্পদিনেই নষ্ট হয়ে যাবে। সুদীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আমি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারনে যেবাস্তব জ্ঞান অর্জন করেছি তারই একটু অভিজ্ঞতালব্দ জ্ঞান প্রদান করলাম পাঠক আপনাদের কল্যানে। এছাড়াও যদি কারও কিছু জানার আগ্রহ হয় আমাকে কম্পিউটারের যেকোন বিষয়ে লিখতে পারেন।
প্রযুক্তগিত খবর আপডটে জানার জন্য চোখ রাখুন আজকের প্রসঙ্গ তে

e-HostBD Hosting Service





eHostBD Hosting

মন্তব্য করুন